



"দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট মেটাতে ৩০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নতুন বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পূর্ববর্তী বছরের নিয়োগ প্রক্রিয়া, বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিবর্তনসহ পরীক্ষার পুঙ্খানুপুঙ্খ মানবন্টন এবং অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।"
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষকের তীব্র ঘাটতি দূর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি ২০২৬ সালে প্রায় ৩০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি বিশাল মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই নতুন মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিটি খুব দ্রুতই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টালে (dpe.gov.bd) প্রকাশ করা হবে।
বিগত বছরগুলোতে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সাধারণত তিন বা চার বছর পর পর অনিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হতো এবং একসঙ্গে সারা দেশের জন্য একটি মাত্র কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো। তবে পূর্বের সেই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন ঘটিয়ে গত বছর থেকে তিন ধাপে বিভাগভিত্তিক আলাদা আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা এবারও বহাল থাকছে।
অতীতে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনের জন্য নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পাস হলেই চলত এবং শুধুমাত্র পুরুষ প্রার্থীদের জন্য স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বড় পরিবর্তন অনুযায়ী এখন পুরুষ ও নারী উভয় প্রার্থীর জন্যই যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক সম্মান ডিগ্রি থাকা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পূর্বে সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর থাকলেও বর্তমান নীতিмаলায় তা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ২১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে, যা করোনাকালীন ক্ষতি ও সেশনজটের কারণে বয়সের ছাড়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই বিশাল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত টেলিটকের অফিশিয়াল আবেদন পোর্টালের (teletalk.com.bd) মাধ্যমে অনলাইনে নির্ভুলভাবে ফরম পূরণ সম্পন্ন করতে হবে।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার শেষভাগে প্রার্থীদের যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে মোট ১১২ টাকা আবেদন ফি ও সার্ভিস চার্জ বাবদ সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। পূর্বে প্রাথমিকে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর অনেক কম থাকলেও বর্তমানে নতুন পদ্ধতিতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ নম্বর থাকে এমসিকিউ লিখিত পরীক্ষায় এবং বাকি ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে সরাসরি মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষার জন্য।
লিখিত পরীক্ষার মোট ৮০টি প্রশ্নের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান এই চারটি প্রধান বিষয় থেকে সমান ২০ নম্বর করে প্রশ্ন করা হয় এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটার নেগেটিভ মার্কিং পদ্ধতি চালু রয়েছে।
এই বিশাল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে প্রার্থীদের এখন থেকেই বিগত ১০ বছরের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্ন ব্যাংক সমাধান করতে হবে এবং নিয়মিত গণিত ও ইংরেজি গ্রামার চর্চা করতে হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো অফিসিয়াল আপডেট এবং পরীক্ষার রুটিন জানতে প্রার্থীদের নিয়মিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল সাইট (dpe.gov.bd) ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Author & Contributor
No comments yet. Be the first to comment!