



"একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে মনোনীত হয়েছে। তবে জিপিএ-৫ পেয়েও ২,২০৫ জন শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি। এর কারণ, পরবর্তী ধাপে করণীয় এবং ভর্তি কৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানুন।"
| মোট কলেজপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী | প্রায় ৯,৮০,০০০ জন |
|---|---|
| GPA-5 পেয়েও কলেজ পায়নি | ২,২০৫ জন |
| ফল প্রকাশের তারিখ | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ক্লাস শুরুর তারিখ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ভর্তি প্রক্রিয়া | অনলাইনভিত্তিক |
একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থীর জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। একইসঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২,২০৫ জন শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি।
ফলাফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো—ভালো ফলাফল থাকার পরও কেন অনেক শিক্ষার্থী কলেজ পেল না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ভর্তি প্রক্রিয়ার মেধাতালিকা, পছন্দক্রম, কলেজভিত্তিক আসন এবং আবেদনকারীর সংখ্যা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।
প্রথম ধাপের ফলাফলে কলেজ না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে শিক্ষার্থীর ফল খারাপ। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এমনটা হয়ে থাকে।
নটর ডেম কলেজ, ঢাকা কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ বা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসনের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। ফলে ভালো ফলাফল করেও সবাই সুযোগ পায় না।
প্রথম ধাপে কলেজ না পাওয়া মানেই ভর্তি শেষ হয়ে যায়নি। ভর্তির আরও ধাপ থাকে এবং প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাপে কলেজে সুযোগ পেয়ে থাকে।
দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সময় নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব দাও:
অনেক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সময় আগের একই ভুল আবার করে। শুধু নামী কলেজ তালিকাভুক্ত করলে পুনরায় কলেজ না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যারা ইতোমধ্যে কলেজে মনোনীত হয়েছো, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভর্তি নিশ্চিতকরণ।
প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী কনফার্মেশন ফি জমা না দেওয়ার কারণে মনোনয়ন হারায়। তাই কলেজ পেয়েছো মানেই কাজ শেষ নয়।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা সাধারণত কয়েকটি ভুল বেশি করে থাকে:
যারা মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাও, তাদের মনে রাখতে হবে ভর্তি প্রস্তুতির ভিত্তি মূলত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে তৈরি হয়।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতের বেসিক শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
যদি শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করা যায়, তাহলে HSC পরীক্ষার পর ভর্তি প্রস্তুতির চাপ অনেকটাই কমে যায়।
কলেজের নাম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সেটাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। বাংলাদেশের অসংখ্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কলেজ থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা মেডিকেল, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে। কাজেই কলেজ না পেয়ে হতাশ না হয়ে সঠিক পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
Author & Contributor
No comments yet. Be the first to comment!