


"সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে এম এ মোত্তালিব মিহিরের অদম্য সংগ্রামের গল্প। এই ব্লগ পোস্টটি তার অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা এবং সেই যাত্রাপথ থেকে আমাদের শেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছে।"
"এই সিকিউরিটি, এদিকে শোন!"
কথাটা শুনলেই যে কারো বুকের ভেতরটা একটু হলেও কেঁপে উঠবে। যার একটা সুন্দর নাম আছে, তাকে যখন শুধু পেশার কারণে নাম ধরে না ডেকে তাচ্ছিল্য করে ডাকা হয়, তখন কতটা মানসিক কষ্ট হয়, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বোঝে না। এমনকি বয়সে ছোট ছেলেরাও যখন তাকে 'তুই' করে সম্বোধন করত, তখন তার চোখের কোণে পানি জমলেও দাঁতে দাঁত চেপে সব সহ্য করতে হতো।
আজ আপনাদের এমন এক লড়াকু তরুণের গল্প শোনাবো, যিনি সিকিউরিটি গার্ডের ডিউটি করার সময় মানুষের এই তাচ্ছিল্যগুলোকে নিজের জেদ বানিয়েছেন এবং ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিজের নামের পাশে 'বিসিএস ক্যাডার' ট্যাগ যুক্ত করেছেন।
তাঁর নাম এম এ মোত্তালিব মিহির।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বড়বেল ঘড়িয়া গ্রামে মিহিরের জন্ম। বাবা বর্গাচাষি এবং মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই সংসারে ছিল চরম অভাব। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থায় পরিবারের পক্ষে পড়াশোনার খরচ চালানো একেবারেই অসম্ভব ছিল। আর্থিক এই টানাপোড়েনের কারণে কলেজের পড়াশোনা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায় তার। বাধ্য হয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য তাকে খুঁজতে হয় কাজ।
টিউশনি, প্রুফ রিডারের কাজের পাশাপাশি একসময় তাকে বাধ্য হয়েই একটি বেসরকারি কোম্পানিতে নিরাপত্তাকর্মী বা সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিতে হয়। কিন্তু মনের ভেতর যার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, তাকে কি আর অভাব আটকে রাখতে পারে?
সিকিউরিটি গার্ডের ডিউটি করা অবস্থায় দিনের পর দিন মানুষের হেয় প্রতিপন্ন হওয়া তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিলেও, তার লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের এই তাচ্ছিল্যের জবাব মুখে দিয়ে লাভ নেই, দিতে হবে নিজের কাজ আর যোগ্যতা দিয়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার নতুন এক যুদ্ধ। একদিকে নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি, অন্যদিকে বিসিএসের মতো দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি।
তিনি শত অভাব ও কষ্টের মাঝেও নিজের পড়াশোনাটা ছাড়েননি। ডিউটির ফাঁকে, বিশ্রামের অল্প সময়ে তিনি একটু একটু করে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। আর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করেই তিনি আজ ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার!
মিহিরের গল্প থেকে আমাদের কী শেখার আছে?
১. তাচ্ছিল্যকে শক্তিতে রূপান্তর: মানুষ আপনাকে কী বলছে, সেটা আপনার পরিচয় নয়। মিহির ভাই মানুষের তাচ্ছিল্য শুনে হতাশ হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেননি, বরং সেটাকেই সফল হওয়ার 'জ্বালানি' হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
২. অজুহাত না দেওয়া: "আমার তো টাকা নেই", "পরিবার সাপোর্ট দিতে পারছে না"— এই কথাগুলো মিহিরের জীবনে শতভাগ সত্যি ছিল। কিন্তু তিনি অজুহাত না দিয়ে সমাধানের পথ খুঁজেছেন।
৩. ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা: অভাবের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। যখনই সুযোগ পেয়েছেন, আবারও শুরু করেছেন এবং লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন।
আপনার প্রস্তুতিতে কোনো অজুহাত নেই তো?
মোত্তালিব মিহির ভাইয়ের জীবনের গল্পটা পড়ার পর একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন— আপনার কাছে তো পড়ার জন্য একটি টেবিল আছে, হাতে একটি স্মার্টফোন আছে, পরিবারের সাপোর্ট আছে। তাহলে আপনার বাধা কোথায়?
সফলতা এমনি এমনি ধরা দেয় না, এর জন্য প্রতিদিন নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হয়। মিহির ভাইয়ের মতো অদম্য জেদ বুকে নিয়ে আজ থেকেই শুরু হোক আপনার আসল প্রস্তুতি।
প্রতিদিন নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে, দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে এবং হাজারো প্রতিযোগীর মাঝে নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখতে— আজই অংশ নিন আমাদের অ্যাপের Custom Quiz Section-এ।
মনে রাখবেন, জীবনযুদ্ধে অজুহাত দেওয়া মানুষেরা হারিয়ে যায়, আর মিহির ভাইদের মতো মানুষেরা ইতিহাস গড়ে! আপনার ইতিহাস লেখার প্রস্তুতি শুরু হোক আজ থেকেই।
(গল্পের সূত্র: ইউটিউবে ভাইরাল হওয়া বিসিএস ক্যাডার মোত্তালিব মিহিরের সাকসেস স্টোরি)
💡 মিহির ভাইয়ের ভিডিও লিংক: http://www.youtube.com/watch?v=4-8oCh4UFGc
Blog Author
No comments yet. Be the first to comment!