



"মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জনকারী ১ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে ফ্রি ট্যাবলেট বা ট্যাব উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য, পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় এর গুরুত্ব এবং শিক্ষার্থীদের করণীয় এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।"
শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধি ও মেধার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নে এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ডিজিটাল ট্যাবলেট বা ট্যাব দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিশেষ পুরস্কার বিতরণী মেগা স্কিমটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং সরকারের আইসিটি ডিভিশনের কারিগরি সহযোগিতায় দেশজুড়ে একযোগে বাস্তবায়িত হবে।
বিগত বছরগুলোতে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণত শুধুমাত্র সার্টিফিকেট, মেধা বৃত্তি বা কাগজের তৈরি প্রশংসাপত্র দিয়ে স্কুল পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হতো, যেখানে কোনো আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার নিয়ম ছিল না।
কিন্তু স্মার্ট বাংলাদেশ ও এআই প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বৈস্ময়িক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে এবং তাদের উচ্চশিক্ষার পথকে সম্পূর্ণ পেপারলেস ও আধুনিক করতে এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপহার হিসেবে দেওয়া এই বিশেষ ব্র্যান্ডের ডিভাইসগুলোতে বিভিন্ন উন্নত শিক্ষামূলক অ্যাপ, ইন্টারেক্টিভ ই-বুক এবং সরকারি ১০ম ও ১১শ শ্রেণির ডিজিটাল ক্লাসরুমের সমস্ত কন্টেন্ট আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকবে।
দেশের সকল সরকারি ও নিবন্ধিত বেসরকারি স্কুলের যোগ্য শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকা শিক্ষা বোর্ডগুলোর মূল ডাটাবেজ (eboardresults.com) থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের এই আকর্ষণীয় পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে বা কোনো থার্ড পার্টির মাধ্যমে কোথাও কোনো আলাদা ফরম পূরণ বা আবেদন করতে হবে না। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় থেকে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট ভেন্যুর তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে তা সরাসরি স্কুলগুলোতে বিতরণ করা হবে।
ইন্টারনেটের সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন কলেজ স্তরের কঠিন বিষয়গুলো যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বা উচ্চতর গণিতের জটিল থিওরিগুলো সহজে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে শিখতে পারে, সেজন্যই এই উদ্যোগ।
এই ট্যাবলেটের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (nctb.gov.bd) থেকে একাদশ শ্রেণির সকল পরিমার্জিত পাঠ্যবই এবং গাইডলাইন বিনামূল্যে পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে পড়াশোনা এগিয়ে নিতে পারবে।
Author & Contributor
No comments yet. Be the first to comment!